ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ ওমরা হজ্বের নামে হজ্বযাত্রীদের ২৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পটিয়ার এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত মাওলানা ওমর ফারুক জব্বারী পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং আন্দরকিল্লাধীন আল জব্বার হজ্ব কাফেলার স্বত্বাধিকারী।
গত ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পবিত্র ওমরা হজ্ব পালন করতে যাওয়ার প্রাক্কালে ভুক্তভোগীরা চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ভিসা-টিকেট কোনকিছুই করা হয় নি। অভিযুক্ত ওমর ফারুক জব্বারীকে বিমানবন্দরে গিয়ে না পেয়ে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত সকল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসতে হয় সৌদিআরবগামী ২৩ হজ্ব যাত্রীকে। তাদের মধ্যে কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সৈন্যেরটেক এলাকার একই পরিবারের ৯ জনসহ মোট ৩২ জন হজ্ব যাত্রী প্রতারণার শিকার হন।
আল জব্বার হজ্ব কাফেলা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকায়।
ভুক্তভোগী কয়েজন হজ্বযাত্রীর সাথে কথা বললে তারা জানান, “গত বৃহস্পতিবার ১৯ ডিসেম্বর পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে আসেন। বিমানবন্দরে এসে তারা জানতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। হজ্ব কাফেলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাউকে সেখানে না পেয়ে স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক জব্বারীকে দফায় দফায় ফোন দেয়া হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কোন সমাধান না পেয়ে পরে তারা বিমানবন্দর থেকে বাড়িতে ফেরত চলে যান।”
তারা জানান, “পবিত্র ওমরা হজ্বব্রত পালনের জন্য পটিয়া উপজেলার শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা হামিদুল হকের মাধ্যমে আল-জব্বার হজ্ব কাফেলায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জমা করি। আল জব্বার হজ্ব কাফেলার স্বত্বাধিকারী মাওলানা ওমর ফারুক জব্বারী গত ১৪ ডিসেম্বর শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন এলাকায় পুলিশ প্লাজার একটি হোটেলে আমাদের হজগমনকারীদের একটি কর্মশালা করান। পরে ১৮ ডিসেম্বর বুধবার আমাদের হাতে ভিসা ও বিমানের টিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও বুধবার রাতে অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুক জব্বারী আমাদেরকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে টিকিট ও ভিসা প্রদান করা হবে। এই ভিত্তিতে আমরা বৃহস্পতিবার ১৯ ডিসেম্বর সকালে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। সৌদিআরবগামী আমাদের ফ্লাইট বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় বলে জানান মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওমর ফারুক জব্বারী। কিন্তু অধ্যক্ষ ওইদিন আমাদেরকে আমাদের পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট কিছু না দিয়ে মোবাইল বন্ধ রাখেন। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষায় থাকার পর তার সাথে কোনরূপ যোগাযোগ করতে না পেরে আমরা যার যার বাড়িতে ফিরে যাই।’
এ ব্যাপারে জানার জন্য অভিযুক্ত আল জব্বার হজ্ব কাফেলার স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ আশিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওমর ফারুক জব্বারীর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল হক রাশেদ জানান, “আমার দুই আত্মীয়ও ওমরা হজ্বের জন্য টাকা জমা দিয়ে এ মাওলানার কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মাওলানা ওমর ফারুক জব্বারী যিনি নিজের নামে রেজিস্ট্রেশনবিহীন হজ্ব কাফেলা খুলে ২৩ ওমরা হজ্ব গমণকারী হতে জনপ্রতি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে মোট ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পবিত্র ওমরা হজ্বের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের প্রতারণাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ দিকে এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোস্যাল মিডিয়াতে, জাহাঙ্গীর আলম নামের এক কুসুমপুরা ইউপি সদস্য লিখেছেন, “যদি মৌলানা সাহেবরা এ ধরনের প্রতারণা করে বেড়ায় আমরা সাধারণ মানুষরা কোথায় যাব? আল্লাহ এদের হেদায়েত করুক।” জাহেদ চৌধুরী নামের আরেক ব্যক্তি লেখেন, “কিছুদিন যাবত বিভিন্ন এলাকার কিছু সংখ্যক মৌলভীর অপকর্ম সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, আজ নিজের এলাকারটাও দেখলাম। বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওকে ধরে আধ ঘণ্টা জুতাপিটা করা হোক।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানান, “এ ধরনের প্রতারক চক্র ধরার জন্য প্রশাসন সদা তৎপর রয়েছে। মৌখিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত হলেও এখনও পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
হজ্ব এজেন্সী এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (হাব) এর চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি মাহমুদুল হক পেয়ারু বলেন, “পবিত্র হজ্বের নামে প্রতরণাকারী এজেন্সীর বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব, প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে আমরা বলেছি।”